সাম্প্রতিক বছরগুলিতে, ই-রিকশাগুলি ভারতের রাস্তায় একটি সাধারণ দৃশ্যে পরিণত হয়েছে, যা লক্ষ লক্ষ লোকের জন্য একটি পরিবেশ-বান্ধব এবং সাশ্রয়ী মূল্যের পরিবহন সরবরাহ করে৷ এই ব্যাটারি-চালিত যানবাহনগুলিকে প্রায়শই ইলেকট্রিক রিকশা বা ই-রিকশা বলা হয়, তাদের কম পরিচালন খরচ এবং ন্যূনতম পরিবেশগত প্রভাবের কারণে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যাইহোক, তাদের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি তাদের বৈধতা এবং ভারতে তাদের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণকারী প্রবিধান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এর উত্থান ই-রিকশা ভারতে
2010 সালের দিকে ভারতে ই-রিকশা প্রথম আবির্ভূত হয়, দ্রুতই শহর ও গ্রামীণ উভয় ক্ষেত্রেই পরিবহনের একটি পছন্দের মাধ্যম হয়ে ওঠে। তাদের জনপ্রিয়তা সরু রাস্তা এবং জনাকীর্ণ এলাকায় নেভিগেট করার ক্ষমতা থেকে উদ্ভূত হয় যেখানে ঐতিহ্যবাহী যানবাহনগুলি সংগ্রাম করতে পারে। অতিরিক্তভাবে, ই-রিকশাগুলি তাদের পেট্রোল বা ডিজেলগুলির তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালনার জন্য সস্তা, যা চালক এবং যাত্রীদের জন্য একইভাবে একটি আকর্ষণীয় বিকল্প করে তোলে।
যাইহোক, ই-রিকশার দ্রুত বিস্তার প্রাথমিকভাবে একটি নিয়ন্ত্রক শূন্যতায় ঘটেছিল। অনেক ই-রিক্সা সঠিক লাইসেন্স, নিবন্ধন বা নিরাপত্তা মান মেনে চলা ছাড়াই চলছিল, যার ফলে রাস্তার নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং আইনি জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
ই-রিকশা বৈধকরণ
একটি আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে ই-রিকশা আনার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, ভারত সরকার তাদের কার্যক্রমকে বৈধ করার জন্য পদক্ষেপ নেয়। প্রথম উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপটি 2014 সালে এসেছিল যখন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রক 1988 সালের মোটর যান আইনের অধীনে ই-রিকশার নিবন্ধন এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছিল৷ এই নির্দেশিকাগুলির লক্ষ্য ছিল যে ই-রিকশাগুলি তাদের পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি পথ প্রদান করার সাথে সাথে নির্দিষ্ট সুরক্ষা এবং অপারেশনাল মানগুলি পূরণ করে তা নিশ্চিত করা৷
মোটর যানবাহন (সংশোধনী) বিল, 2015 পাসের মাধ্যমে বৈধকরণ প্রক্রিয়া আরও দৃঢ় হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে ই-রিকশাকে মোটর যানের একটি বৈধ বিভাগ হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সংশোধনীর অধীনে, ই-রিকশাগুলিকে ব্যাটারি চালিত যান হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছিল যার সর্বোচ্চ গতি 25 কিমি/ঘন্টা এবং চারজন যাত্রী ও 50 কেজি লাগেজ বহন করার ক্ষমতা। এই শ্রেণিবিন্যাস ই-রিকশাকে অন্যান্য বাণিজ্যিক যানবাহনের মতো নিবন্ধিত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত এবং নিয়ন্ত্রিত করার অনুমতি দেয়।
ই-রিকশার জন্য নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা
বৈধভাবে ভারতে একটি ই-রিকশা চালানোর জন্য, চালক এবং যানবাহনের মালিকদের অবশ্যই কয়েকটি মূল নিয়ন্ত্রক প্রয়োজনীয়তা মেনে চলতে হবে:
- নিবন্ধন এবং লাইসেন্সিং
ই-রিকশা অবশ্যই আঞ্চলিক পরিবহন অফিসে (RTO) নিবন্ধিত হতে হবে এবং একটি নিবন্ধন শংসাপত্র জারি করতে হবে। ড্রাইভারদের একটি বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হবে, বিশেষ করে হালকা মোটর গাড়ির (LMVs) জন্য। কিছু রাজ্যে, চালকদের ই-রিকশা চালানোর জন্য একটি পরীক্ষা বা সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণও পাস করতে হতে পারে।
- নিরাপত্তা মান
সরকার গাড়ির কাঠামো, ব্রেক, আলো এবং ব্যাটারির ক্ষমতার স্পেসিফিকেশন সহ ই-রিক্সার জন্য নিরাপত্তা মান প্রতিষ্ঠা করেছে। এই মানগুলি ই-রিকশাগুলি যাত্রী এবং অন্যান্য রাস্তা ব্যবহারকারী উভয়ের জন্যই নিরাপদ তা নিশ্চিত করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে৷ যে যানবাহনগুলি এই মানগুলি পূরণ করে না সেগুলি নিবন্ধন বা পরিচালনার জন্য যোগ্য নাও হতে পারে৷
- বীমা
অন্যান্য মোটর গাড়ির মতো, দুর্ঘটনা বা ক্ষতির ক্ষেত্রে দায়ভার কভার করার জন্য ই-রিকশাকে অবশ্যই বীমা করা উচিত। ব্যাপক বীমা পলিসি যা তৃতীয় পক্ষের দায়, সেইসাথে গাড়ি এবং চালককে কভার করে, সুপারিশ করা হয়।
- স্থানীয় প্রবিধানের সাথে সম্মতি
ই-রিকশা অপারেটরদের অবশ্যই স্থানীয় ট্রাফিক আইন ও প্রবিধানগুলি মেনে চলতে হবে, যার মধ্যে যাত্রী সীমা, গতির বিধিনিষেধ এবং নির্ধারিত রুট বা জোনগুলি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে৷ কিছু শহরে, নির্দিষ্ট এলাকায় কাজ করার জন্য নির্দিষ্ট পারমিটের প্রয়োজন হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োগ
যদিও ই-রিকশার বৈধকরণ তাদের পরিচালনার জন্য একটি কাঠামো প্রদান করেছে, তবুও প্রয়োগ এবং সম্মতির ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জগুলি রয়ে গেছে। কিছু অঞ্চলে, অনিবন্ধিত বা লাইসেন্সবিহীন ই-রিকশা চলতে থাকে, যার ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নিরাপত্তার সমস্যা দেখা দেয়। উপরন্তু, নিরাপত্তা মান প্রয়োগ রাজ্য জুড়ে পরিবর্তিত হয়, কিছু এলাকা অন্যদের তুলনায় আরও কঠোর।
আরেকটি চ্যালেঞ্জ হল বৃহত্তর শহুরে পরিবহন নেটওয়ার্কে ই-রিকশাকে একীভূত করা। যেহেতু তাদের সংখ্যা বাড়তে থাকে, শহরগুলিকে অবশ্যই যানজট, পার্কিং এবং চার্জিং অবকাঠামোর মতো সমস্যাগুলি সমাধান করতে হবে। ব্যাটারি নিষ্পত্তির পরিবেশগত প্রভাব এবং টেকসই ব্যাটারি প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও চলমান আলোচনা রয়েছে।
উপসংহার
ই-রিকশাগুলি ভারতে প্রকৃতপক্ষে বৈধ, তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য একটি সুস্পষ্ট নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৈধকরণ প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় স্বচ্ছতা এবং কাঠামো প্রদান করেছে, যা ই-রিকশাকে পরিবহনের একটি টেকসই এবং সাশ্রয়ী মূল্যের মাধ্যম হিসাবে উন্নতি করতে দেয়। যাইহোক, প্রয়োগ, সম্মতি এবং নগর পরিকল্পনা সম্পর্কিত চ্যালেঞ্জগুলি রয়ে গেছে। যেহেতু ই-রিকশাগুলি ভারতের পরিবহন ল্যান্ডস্কেপে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে, এই চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করার জন্য চলমান প্রচেষ্টাগুলি দেশের পরিবহন ইকোসিস্টেমে তাদের নিরাপদ এবং দক্ষ একীকরণ নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য হবে৷
পোস্টের সময়: 08-09-2024

